পঞ্চান্নতম অধ্যায়: কি জিন বিন মৃত্যুকে আহ্বান করছে?

অন্ধকার রাতের অধ্যাপক মার্ভেলের জগতে লানলু ডাকাতি করে না। 2753শব্দ 2026-03-19 05:01:36

মার্থা উদ্বিগ্ন চোখে মাইকেলের দিকে তাকিয়ে ছিল, মনে হচ্ছিল সে তার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। জ্যাকের মোটা মুখে আঘাতের চিহ্ন, মুখে বিষণ্নতার ছাপ, মাথা নিচু, স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল সে শাসন পেয়েছে। সুসির পোশাক পরিচ্ছন্ন, কেবল বাঁধা ছিল, তার ওপর কোনো সহিংসতার চিহ্ন নেই, বোঝা যায় এই দলটা বেশ পেশাদার। ওদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে মাইকেল সানগ্লাস পরা লোকটির দিকে তাকাল। তার শরীরে উল্কি, হাতে বন্দুক ব্যবহারে তৈরি কড়া, সে একজন অভিজ্ঞ, ভঙ্গিমা সোজা, সম্ভবত অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক।

তাহলে প্রশ্ন জাগে, এই দলটা আসলে কী চায়? শেয়ার কিনতে, নাকি অন্য কিছু? মাইকেল জিজ্ঞেস করল, ‘‘তোমরা আসলে কারা?’’ দলের সর্দার মজার হাসি দিয়ে তাকাল মাইকেলের দিকে, তারপর উদ্ধত কণ্ঠে বলল, ‘‘ছোকরা, আমরা কারা তা জানা তোমার দরকার নেই, শুধু জানো তুমি এমন কাউকে বিরক্ত করেছ যাকে বিরক্ত করা উচিত নয়।’’

বিরক্ত করেছি? মাইকেল কিছুতেই মনে করতে পারল না কারো সাথে এমন কিছু ঘটিয়েছে কিনা, তবে এই দলের আচরণ মোটেই সৎ পথের লোকদের মতো নয়। মাইকেল কপালে ভাঁজ ফেলে বলল, ‘‘তোমরা কি মাফিয়ার লোক? আমি কীভাবে তোমাদের বিরক্ত করলাম?’’ সানগ্লাসওয়ালা বলল, ‘‘তুমি আমাদের শেয়ার কিনেছ, এখন সব ফেরত দিতে হবে।’’

সে একখানা নথি ছুঁড়ে দিল, ইশারা করল তার সঙ্গীকে মাইকেলের হাতে দিতে। মাইকেল নথি দেখে চমকে গেল, এগুলো ছিল শেয়ার হস্তান্তরের দলিল, শুধু অসবর্ন কোম্পানির নয়, স্টার্ক কোম্পানিরও। বোঝা গেল, ওরাই অসবর্ন কোম্পানির পেছনের কারিগর, আর এখন মাইকেলের হাতে থাকা স্টার্ক কোম্পানির শেয়ারও চায়।

এত উদ্ধত, পুলিশের কাছ থেকেও জিনিস আদায় করতে পারে, শেয়ার বাজারের রাজারও মুখ বন্ধ রাখতে পারে, এসব কাজের ধরণ সৎ লোকদের নয়, যারা এমন ক্ষমতাবান তাদের সংখ্যা বেশি নয়। ‘‘তোমরা কি কিংপিনের লোক?’’ মাইকেলের প্রশ্নে সানগ্লাসওয়ালা বিস্মিত হয়নি, কিংপিনের নাম তো সবাই জানে। ‘‘জেনে নিয়েছো, আর বুঝি বোঝাতে হবে না। এখনই চুপচাপ স্বাক্ষর করো, নইলে ওদের প্রাণ যাবে।’’

মাইকেল হাসল। কিংপিন, মরতে ভুলে যাওয়া এক লোক, সত্যি ভেবেছো তুমি শুধুই একজন কালোবাজারি ডন হয়ে আকাশ ঢেকে দিতে পারবে? আর, আমি কি বোকা? আমি স্বাক্ষর করলে কি আমাদের ছেড়ে দেবে?

‘‘তুমি কী মনে করো, আমি না তুমি— কে আগে মরবে?’’ মাইকেলের প্রশ্নে সানগ্লাসওয়ালা হেসে উঠল, ‘‘ছোকরা, বাড়াবাড়ি কোরো না, আমি...’’ মাইকেল মুহূর্তে তার সামনে গিয়ে এক চড়ে তার মুখ বিকৃত করে দিল। অন্যরা বুঝে ওঠার আগেই সে মার্থাকে ধরে রাখা লোকের সামনে গিয়ে তার বন্দুক কেড়ে নিয়ে তাকে এক চাপে নিস্তেজ করে দিল, তারপর বাকি দুজনকেও নিমিষে শেষ করল।

মাইকেল যেন এক শয়তান, সহজেই একের পর এক নিধন করতে লাগল, গুলির গতিও তার চোখে ধীর। সে কেবল মুহূর্তে সামনে গিয়ে হালকা ছোঁয়ায় তাদের পেশি বিকৃত করে দিত, শরীর নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছিটকে যেত।

খুব দ্রুত সবাই মাটিতে পড়ে গেল, মার্থা অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে রইল মাইকেলের দিকে, কিছুতেই বুঝতে পারছিল না সে কিভাবে এমন করল। মাইকেল তাদের বাঁধন খুলে দিল, তবুও তারা চমক থেকে বের হতে পারছিল না। মাইকেল নিজেও ভাবল, এতগুলো লাশ পড়ে থাকা ভয়ঙ্করই বটে।

তবে এরা সবাই কিংপিনের লোক, সমাজের নিচুস্তরের জঘন্য মানুষ, এদের মৃত্যু ন্যায্য। জ্যাক হুঁশ ফিরে মাইকেলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘‘আসলে কী হয়েছে? মাইকেল, তুমি কিভাবে এদের জড়িয়ে পড়লে?’’

মাইকেল মাটিতে পড়ে থাকা নথিপত্র তুলে জ্যাককে দিল, বলল, ‘‘আমি স্টার্ক কোম্পানির অনেক শেয়ার কিনে এক রাতেই ধনী হয়ে গেলাম, তাই কেউ কেউ ঈর্ষায় আমাকে টার্গেট করেছে।’’

জ্যাক নথি দেখে দ্রুত সব বুঝে গেল, সে কেন রাজনীতিবিদদের সাথে সম্পর্ক গড়ার জন্য টাকা খরচ করত, আসলে ভয় ছিল কেউ ঈর্ষায় তার সম্পদ কেড়ে নিতে চাইবে, তবু শেষ রক্ষা হলো না। সত্যিই মাইকেলেই তার উন্নতি, আবার মাইকেলেই তার পতন।

জ্যাক অসহায়ভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ‘‘মাইকেল, চলো আমেরিকা ছেড়ে যাই। কিংপিন খুব ভয়ংকর ও ক্ষমতাধর লোক, তোমার প্রতিভায় নতুন করে শুরু করা কেবল সময়ের ব্যাপার।’’

মার্থা একজন গৃহিণী, কিংপিনের ভয়াবহতা বোঝে না। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘‘এই কিংপিন কি এতই শক্তিশালী? সরকারও কিছু করতে পারে না?’’

‘‘কিছুই করতে পারে না, কিংপিন হলো অপরাধজগতের শাসক, প্রকৃত নিয়ম নির্ধারক, পুলিশ তার কিছুই করতে পারে না।’’

সুসি বিরক্তির সাথে মাইকেলের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘‘সব ঝামেলা ওরই তো, ও-ই গিয়ে মেটাক। এতই যদি শক্তিশালী হয়, গিয়ে কিংপিনকে মেরে ফেলুক।’’

তবে জ্যাক বাস্তববাদী, সে সোজা সুসিকে এক চড় মারল, ‘‘এখনো কী সময় আছে দুষ্টুমি করার? তাড়াতাড়ি জিনিসপত্র গুছিয়ে চলে চলো।’’

মাইকেল জ্যাককে থামাল, ‘‘কিছু গুছাতে হবে না। সুসি একদম ঠিক বলেছে, আমি গিয়ে ওদের সবাইকে মেরে ফেলব, একবারে সমস্যার সমাধান।’’

জ্যাক কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে বলল, ‘‘মাইকেল, বাজে কথা বোলো না, তুমি কিংপিনের ভয় কতটা জানোই না, সুসির কথায় কান দিও না।’’

‘‘সে কি এতটাই ভয়ংকর? সে কি অমর?’’ জ্যাক নির্বাক। মাইকেলের আচরণ স্পষ্টই মানুষের সাধ্যের বাইরে, কিংপিন কেবল একজন অপরাধী, যতই শক্তিশালী হোক সে তো মানুষই, মারা যাবেই।

‘‘আমার ভালো খবরের জন্য অপেক্ষা করো। আমি না ফিরলে তখন টিকিট কেটো।’’

‘‘মাইকেল, সাবধানে থেকো।’’ মাইকেল একবার মার্থার দিকে তাকাল, দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে গেল। কিংপিন তার সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে, মার্থার নিরাপত্তায় হুমকি দিয়েছে, তাই তাকে মরতেই হবে।

সে অসবর্ন কোম্পানির ছাদে গিয়ে একটি ক্লাউন মাস্ক ও একটি তলোয়ার বানিয়ে নিল, তারপর বেরিয়ে পড়ল। মাইকেল টোনিকে ফোন লাগাল।

‘‘টোনি, আছো?’’
‘‘আছি, কী ব্যাপার?’’ টোনি তখন নতুন রিঅ্যাক্টর নিয়ে গবেষণা করছিল, রক্তের বিষক্রিয়া নিরসনের চেষ্টা করছিল, এমন সময় মাইকেলের ফোন এলো।
‘‘তুমি কি খুঁজে দিতে পারবে এমন একজন লোকের তথ্য, নাম উইলসন.ফিস্ক, তার স্ত্রী ভেনেসা, ছেলে রিচার্ড। লোকটা বেশ শক্তপোক্ত হবে।’’

‘‘একটু দাঁড়াও।’’ টোনি জার্ভিসের সাহায্যে সরকারি সিস্টেমে ঢুকে গেল, দ্রুতই উইলসন.ফিস্ককে খুঁজে বের করল।

‘‘উইলসন.ফিস্ক, সে একটি পরিবহন কোম্পানি চালায়, তবে কোম্পানিটা সন্দেহজনক, দেখছি নিছকই কাগুজে প্রতিষ্ঠান। তার স্ত্রী নাকি মারা গেছে, ছেলে থাকে...’’

মাইকেল মনে পড়ল, এক কাহিনিতে কিংপিন বুঝতে পারে তার স্ত্রীর দুর্বলতা, তাই নিজেই স্ত্রীকে খুন করে। ছেলেটিও পরে খুনির হাতে মারা যায়, কিংপিন বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধ শুরু করে, প্রায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে ফেলে।

এখন কিংপিনের ছেলে আছে, স্ত্রী সম্ভবত তার দ্বারা খুন হয়েছে। কী নিষ্ঠুর লোক!

শেকড়সহ উপড়ে ফেলা উচিত, মাইকেল রিচার্ডকে খুঁজে বের করল। ছেলেটি সত্যিই ভালো, তবে সে বোঝে না তার বাবা কে, দেখতে কিংপিনের মতো নয়, বরং রোগাপাতলা।

‘‘ছোকরা, তোমার চেহারা দেখেই বোঝা যায় বড় কিছু করবে, আমার সঙ্গে চলো।’’

‘‘কী বলছ? তুমি কে?’’ মাইকেল সরাসরি তার গলায় তলোয়ার ধরে বলল, ‘‘এখন কি আমার সঙ্গে যাবে?’’

‘‘তুমি কাকে ভয় দেখাচ্ছ, আজকাল আর কেউ তলোয়ার দিয়ে মানুষ মারে?’’ মাইকেল হাসল, পাশে থাকা ছোট গাছটি এক কোপে কেটে ফেলল, বলল, ‘‘তুমি কি মনে করো, তোমাকে মারতে পারব না?’’

রিচার্ড গিলতে গিলতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল, কাটা গাছের মসৃণ অংশ দেখে ভয়ে বলল, ‘‘আমি যাব, আমাকে মেরো না।’’

মাইকেল হাসল, ‘‘তুমি সত্যিই মেধাবী, দুঃখ এই যে তোমার বাবা কিংপিন।’’

এমন দৃঢ়চিত্তের ছেলে, সে যদি কিংপিনের না হতো, মাইকেল তাকে নিজের বিশ্বস্ত দাস বানাতো।

মাইকেল রিচার্ডকে নিয়ে ডেভিলস কিচেনে এল, হঠাৎ একটি আইনজীবী ফার্ম চোখে পড়ল। এ কি ওই লোকের দপ্তর?