পঞ্চম অধ্যায়
নীল তেরো কখনো মানবাকৃতির জন্তুর মুখে এমন রহস্যময় হাসি দেখেনি। অজানা ভয়ের একটা স্রোত তার হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে এলো। সে হঠাৎ করে জন্তুটার উপরের বাহু চেপে ধরল।
একটা হালকা ধোঁয়া ওর তালুর ভেতর থেকে ধীরে ধীরে উঠছিল। নীল তেরো ওর আঙুলগুলো ছাড়ানোর জন্য জোর করল, কিন্তু জন্তুটা মরিয়া হয়ে আঁকড়ে ছিল, কিছুতেই ছাড়ছিল না। এ জিনিসটার এতটা শক্তি এল কোথা থেকে?
এ নিয়ে ভাবার সময় ছিল না নীল তেরোর। সে পাঁচ আঙুল সোজা করে, হাতের পাশ দিয়ে প্রবলভাবে কুচকির গাঁটে কাটল। জন্তুটার মুষ্টিবদ্ধ হাত হঠাৎ খুলে গেল, আর ওর তালুর মাঝখান থেকে ধোঁয়াওঠা কালো গোলকটা লাফিয়ে উঠল।
গোলকটা মাটিতে পড়ার আগেই, নীল তেরো নিজের বাহু ঘুরিয়ে, তালু দিয়ে জোরে সেটা ছুড়ে দিল। গোলকটা দ্রুত ঘুরতে ঘুরতে আকাশে উঠে গেল।
একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ—গোলকটা মাঝ আকাশেই আগুনের গোলায় বদলে গেল। নীল তেরোর কানে গুঞ্জন উঠল, কয়েক দশ মিটার দূরেও বিস্ফোরণের উত্তাপ তার মুখে দহন ধরিয়ে দিল।
জন্তুটার হাতে যদি ওই বোমাটা ফেটে যেত, কী হতো সেটা কল্পনাও করতে পারল না নীল তেরো।
মৃত্যুর কিনারা থেকে ফিরে আসার আতঙ্কে সে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল। তার চোখে হিংস্রতা ঝলসে উঠল, সামান্য ঝুঁকে নিজের পিঠ থেকে ধারালো ছুরি বের করল, এবং সেটি জন্তুর গলায় ঠেকাল। সামান্য চাপ দিতেই গা জ্বালানো, আঁশটে, লালচে রক্ত ছুরির ধার ধরে টুপটুপ করে পড়তে লাগল।
মানবাকৃতির জন্তুটার বিকৃত মুখে, দুই বড় বড় চোখে চরম ঘৃণা নিয়ে সে তাকিয়ে রইল, বিন্দুমাত্র ভয় নেই। বরং, নীল তেরো মনে করল, ওটা যেন ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে উত্তেজিত করছে, যেন দ্রুত মৃত্যুই কাম্য।
হঠাৎ ঐ দুর্গন্ধটা মিলিয়ে গেল।
নীল তেরো চমকে উঠল, তার হাতে ধরা ছুরি আর নামল না।
—অভিশপ্ত মায়া!